প্রকাশিত: ০২/০১/২০১৮ ৮:২৫ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৮:৩৪ এএম

নিউজ ডেস্ক::

২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী নৃশংস জাতিগত নিধনের সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বর্বরোচিত নির্যাতন। ২৫শে আগস্টের পর থেকে চলা এ ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে কক্সবাজারে অনুপ্রবেশ করে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আশ্রয় দেয়া হলেও তারা এখন নানামুখী সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বন উজাড়, পাহাড় কাটা, কৃষি জমি দখল, সংক্রমণ ব্যাধি, পরিবেশ বিপর্যয়, অপরাধ, শ্রমবাজারে অস্থিরতা তৈরির কারণ হিসেবে রোহিঙ্গাদের দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় প্রশাসন বলছে, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি স্থানীয়দের সহায়তার আওতায় আনার জন্য কাজ করছে সরকার।

গত বছরের আগস্টের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমারের সীমান্ত চৌকিতে হামলার জের ধরে শুরু হয় রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতনের কারণে বানের পানির মতো বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। নতুন ৭ লাখসহ কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। আর এসব রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ায় ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় লোকজন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মানবিক কারণে আশ্রয় দিতে গিয়ে অপরাধ, বন উজাড়, পাহাড় কাটা, পরিবেশ বিপর্যয় এবং সংক্রামক ব্যাধিতে দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে উখিয়া ও টেকনাফ।

কক্সবাজার-৪ আসন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি বলেন, ‘রোহিঙ্গার আশেপাশে যারা আছেন তারা অনেক অসুবিধায় আছেন।’

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরুজুল হক টুটুল বলেন, ‘সোশ্যাল কিছু ব্যাঘাত ঘটছে, কারণ তারা এ দেশের আইন-কানুন জানে না।’

বায়োমেট্রিক পদ্ধতি পুরানো ও নতুন রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের আওতায় এসেছে প্রায় সাড়ে ৯ লাখ রোহিঙ্গা। সরকারের এই নিবন্ধন প্রক্রিয়াকে সাধুবাদ জানিয়ে দ্রুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দাবি জানালেন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের এ নেতা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদ  প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহামুদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘তাদেরকে মিয়ানমারে প্রত্যাবসান করলেই আমাদের সমস্যার সমাধান হবে।’

শীর্ষ কর্মকর্তারা জানালেন স্থানীয়দের সমস্যা সমাধানে রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসনে কাজ করছে সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয়দের সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের কারণে উজাড় হয়েছে সাড়ে ৪ হাজার একর বনভূমি ও স্থানীয়দের ১শ একরের বেশি কৃষি জমি। কাটা হয়েছে ৪শ কোটি টাকার গাছ। আর প্রতিদিন জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে ৭৫০ মেট্রিক টন বনের গাছ।
এইডস আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ১২৭ জন ও ডিপথেরিয়া আক্রান্ত হয়েছে ২হাজার ৭শ রোহিঙ্গা। বিভিন্ন অপরাধে সাজা হয়েছে ৬০৭ জনের; মামলা হয়েছে ২৮টি। সুত্র :কক্সবাজার রিপোর্ট :

 

পাঠকের মতামত

কোর্টবাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বেকারি ও মাংসের দোকানকে জরিমানা

 কক্সবাজারের কোর্টবাজারের ভালুকিয়া রোডে মধ্যরত্না রত্নাংকুর বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন একটি বাসায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ...

রোহিঙ্গাদের দক্ষতা উন্নয়নে ৪৬ কোটি টাকায় পরামর্শক নিয়োগের অনুমোদন

চট্টগ্রাম বিভাগে আশ্রয়দানকারী স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) দক্ষতা উন্নয়ন, সামাজিক সুরক্ষা ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে উঠে ...

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজন পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজনের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। এতে বক্তারা ...

ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই অস্ত্রোপচারে কলেজছাত্রীর মৃত্যু

ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করার পর আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক ...
Single Page Footer